ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ এপ্রিল ২০২২
  1. 'অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আর্কাইভ
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. খেলাধুলা
  8. ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম
  9. জাতীয়
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রবাসীদের কথা
  13. বরিশাল
  14. বিজ্ঞান
  15. বিনোদন

বলেশ্বর নদীতে নির্বিচারে মারা পড়ছে ইলিশের পোনা, প্রশাসন নির্বিকার

স্টাফ রিপোর্টার :
এপ্রিল ১৯, ২০২২ ৭:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদীতে নিষিদ্ধ বাঁধা জালে নির্বিচারে মারা পড়ছে ইলিশের পোনা মাছ। দৈনিক মনকে মন পোনা নিধন হলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়নে কাটাখাল, পুরানো খাল, লঞ্চঘাট, তুষখালীর তুলাতলা, হোতাখাল ও বেতমোরের সাংরাইল এলাকায় নিষিদ্ধ জালে যেভাবে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের পোনা হত্যা চলছে, এতে অচিরেই মাছের ভান্ডার শূন্য হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিন কী পরিমাণ পোনা মাছ নিধন হচ্ছে, তা নিজের চোখে না দেখলে কল্পনা করাও কঠিন।

স্থানীয় সাধারণ জেলে ও সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, নদীতে ছোট ফাঁস জালের অবাধ ব্যবহারে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন, বংশ বিস্তার ও বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

মৎস্য আইনে মাছের পোনা সংরক্ষণে সোয়া চার ইঞ্চির কম ফাঁস জাল ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ ওই এলাকায় আধা ইঞ্চি থেকে পৌনে এক ইঞ্চি ফাঁস জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার তুষখালী থেকে বড় মাছুয়া হয়ে খেতাছিড়া পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার বিশাল এলাকাজুড়ে নিষিদ্ধ বাঁধা, গড়া ও বেহুন্দি জাল পাতা হচ্ছে। এসব জালের ফাঁস আধা ইঞ্চি থেকে পৌনে এক ইঞ্চি। ওই ছোট ফাঁসের এ নিষিদ্ধ জালে অবাধে পোনা মাছ নিধন চলছে। সাধারণত জেলেরা ইলিশ, পোয়া, টেংরা, চিংড়ি, তপশীসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে থাকেন। জালে এসব মাছের পাশাপাশি অনেক মাছের পোনাও আটকা পড়ে। কিন্তু এসব পোনা কোনো কাজে লাগে না বলে তাঁরা নদীতে ফেলে দেন। এদিকে নদী থেকে ধরা মাছ ট্রলারে করে ঘাটে এনে প্রকাশ্যে খোলা ডাক দিয়ে মাছ বিক্রি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন মাছের মধ্যে ইলিশের পোনা, ডিমওয়ালা গলদা চিংড়ি, পাঙ্গাসের পোনাও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বড় মাছুয়া ইউনিয়নে খেজুরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল আকন অভিযোগ করে বলেন, জেলেদের নিষিদ্ধ বাঁধা জালে নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশের পোনা মারা পড়ছে। জেলেরা ইলিশের ছোট পোনাগুলো নদীতে ফেলে দিয়ে আসে। দেড়-দুই ইঞ্চি সাইজের পোনা গুলো ঘাটে এসে প্রকাশ্যে খোলা ডাকে বিক্রি করছে।
মৎস্য ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, অসাধু জেলেদের মাছের পোনা নিধনের ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বার বার অবহিত করা হলেও কোন অভিযান পরিলক্ষিত হয়নি। নির্মম এ নিধন যজ্ঞের কারনে প্রজননকালীন সময়ে ইলিশ রক্ষায় সরকারের‌ গ্রহণ করা সকল উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান জানান, রমজানের কারণে আমাদের অভিযান কিছুটা ভাটা পড়েছে। শুনেছি মাছের পোনা নিধনের প্রকোপ বর্তমানে বেড়ে গেছে। শিঘ্রই পোনা নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।