ঢাকাবুধবার , ১১ মে ২০২২
  1. 'অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আর্কাইভ
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. খেলাধুলা
  8. ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম
  9. জাতীয়
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রবাসীদের কথা
  13. বরিশাল
  14. বিজ্ঞান
  15. বিনোদন

ইংল্যান্ড কাহন -জিয়াউল ইসলাম

জিয়াউল ইসলাম
মে ১১, ২০২২ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এক যুগেরও বেশি সময় পার করলাম ইংল্যান্ড যাপনের। দীর্ঘ্য এই সময়ে ভালো মন্দ দুটোরই কমবেশি অভিজ্ঞতা হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে এদেশের অনেক কিছুর।
প্রায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে দরকষাকষির এক পর্যায়ে চূড়ান্তভাবে গত ২০২০ এর ডিসেম্বরে ব্রেক্সিট (BREXIT) কার্যকর হলো অর্থাৎ ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU) থেকে বের হয়ে এসেছে। ব্রেক্সিট-চিপায় পড়ে এরই মাঝে অবশ্য দু’জন ব্রিটিশ সরকার প্রধানকে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হয়েছে!

শতভাগ কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেও বাংলাদেশের প্রথম সারির খবরের কাগজগুলো (জনকণ্ঠ এবং ইনকিলাব ছাড়া) নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি। বাংলাদেশের কাগজগুলোতে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে পাঠানো লেখাগুলোর অধিকাংশ লেখায় ফুটে ওঠে বিদেশের যা কিছু সুন্দর, আকর্ষণীয়, অপূর্ব, চোখজুড়ানো কেবল তা-ই। তবে আমি ইংল্যান্ডের কিছু ভাল এবং পাশাপাশি এদেশের কিছু ছোটখাটো এবং সুক্ষ না-ভালো’র অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই।

সবচেয়ে আশ্চর্য্যের স্থাপনা ‘লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড’ বা ‘পাতাল রেইল’। ১৫৮ বছর আগে চালু হয়ে আজ অবধি বিরতিহীন চলছে সাপের মতো এঁকেবেঁকে। পুরো শহর জুড়ে মাটির নিচে জালের মতো বিছিয়ে রয়েছে টিউব লাইন। মোট ১১টি লাইন ২৭০টি স্টেশনের মাধ্যমে লন্ডন শহরের ৪০২ কি:মি: পথ কাভার করে। দিনের বেলা লন্ডন শহরের অর্ধেক মানুষ প্রতিনিয়ত মাটির নিচেই থাকে আমার ধারণা।
যারাই ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহন করে তাদের শতকরা একশজনই ড্রাইভিং শেখেন। তবে নিয়মিত সবাই ড্রাইভ করেন না। একটি কথা বলে রাখি, ইংল্যান্ডের ‘ড্রাইভিং টেস্ট’ পাশ করা খুবই কঠিন এবং লেসন ব্যয়বহুল। বাংলাদেশে ড্রাইভিং টেস্ট পাশ করে লাইসেন্স থাকা সত্তেও আমাকে এখানে পাশ করতে তিনবারের জন্য জন্য টেস্ট দিতে হয়েছে। ২০১১ সালে ড্রাইভিং (ম্যানুয়াল) লাইসেন্স হাতে পেয়ে মনে হয়েছিলো ব্রিটিশ পাসপোর্ট পেয়ে গেছি!
ইংল্যান্ডের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এতোটাই নির্ভরযোগ্য যে, দূর দূরান্ত থেকে মানুষেরা অফিসে আসা-যাওয়ার জন্য নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করেন না বললেই চলে। ঢাকা শহরের যেকোনো অফিসের একজন বড় কর্মকর্তা যদি লোকাল বাসে চড়ে অফিসে আসেন এবং পিঠে স্কুল-ব্যাগের মতো একটি অফিস-ব্যাগ বহন করেন তখন তাকে অধস্তন কর্মচারীগণ উপাধি দিবে…..! কিন্তু এখানে বড় বস, মাঝারী বস, ছোট বস সবাই যে যার ব্যাগ পিঠে/কাঁধে বহন করেন। কেউ কেউ সকালের নাস্তা হাতে নিয়ে অফিসে ঢোকেন।
স্কুল জীবনে ছবিতে দেখতাম লন্ডন ব্রিজ; ব্রিজটির নাম আসলে ’টাওয়ার ব্রিজ’। ব্রিজের উপর রয়েছে ‘টাওয়ার মিউজিয়াম’। টেমস নদীর উপর এই টাওয়ার ব্রিজের কিছুটা পশ্চিমেই যে ব্রিজটি ওটিই ‘লন্ডন ব্রিজ’। টেমস নদীর ওপর রিচমন্ড ব্রিজ থেকে ডার্টফোর্ড ক্রসিং পর্যন্ত ৩৩ টি ব্রিজ রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি টানেল রয়েছে টেমস নদীর তলদেশে।
এই টেমস নদীর পানিই রিফাইন করে সারা লন্ডন শহরে সাপ্লাই দেয় ‘টেমস ওয়াটার’।

না ভালো : ইংলিশ সভ্য জাতি তথা সমগ্র ইউরোপীয়ানদের একটি নোংরা অভ্যাস, আর তাহলো টয়লেট শেষে পানি ব্যবহার না করা! শুধু টয়লেট-টিস্যু দিয়েই কম্ম সম্পাদন করেন; তবে এন্টি-ব্যাক্টেরিয়াল হ্যান্ড-ওয়াশ দিয়ে হাতদু’খানা ধৌত এবং নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন। পাবলিক টয়লেট এবং অফিস কোথাও শৌচকার্যের পানির ব্যবস্থা নেই, তবে শুধু হাত ধোয়া এবং ড্রাই করার ব্যবস্থা আছে। ধরুন, লন্ডন শহরে একদিনের জন্য টয়লেট-টিস্যুর অভাব পড়ে গেলো; পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে! মাঝে মধ্যেই ট্রেইন/বাসে কিছুটা আঁচ করতে হয়; বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত মোটা-মানুষ অথবা বৃদ্ধ/বৃদ্ধা, মাত্র টিস্যু-কম্ম সেরে এসেছেন তখন …..। একবার ভাবুনতো, জরুরী প্রয়জনে কোনো এক টয়লেটে ঢুকে পড়লেন এবং যথারীতি মনের সুখে মলত্যাগ শেষেই দেখলেন যে, পানি ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই! কি বিব্রতকর পরিস্থিতি তা একমাত্র ভুক্তভোগী বুঝে। সেক্ষেত্রে সাথে রাখা পেপার-কাপ অথবা প্লাস্টিকের বোতলই একমাত্র ভরসা। ২০০৮ এর আগেও চারবার ভিজিট করেছি ইংল্যান্ড, সুতরাং কিছুটা অভিজ্ঞতা তখনই হয়েছিল।
যতদিন নিয়মিত পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করতাম তখন একটি ব্যাপার প্রায়শই চোখে পড়েছে : কিছু নোংরা যাত্রী নিজেদের সিটে বসে বিপরীত দিকের অথবা পাশের সীটে জুতাসহ পা উঠিয়ে রাখে!
আবার কখনো দেখেছি সুস্থ সবল তাগড়া যুবক/যুবতী (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইমিগ্র্যান্ট) সীটে বসে আছে অথচ কাছে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন একজন একজন ডিসাইবলড; এমনও দেখেছি একজন তাগড়া সীটে বসে চোখ বন্ধ করে রেখেছে!
কোনোরকম বিবেকহীন বা ছোটখাটো অপরাধ হতে দেখে প্রতিবাদ করলে বরং নিজেকে ঝামেলায় পড়তে হয় তবে ইংল্যান্ডের পুলিশ অনেক মানবিক।

ড্রাইভিং-দুর্ঘটনায় নিজেকে ১০০ ভাগ নির্দোষ প্রমান করলে, এমনকি ইন্সুরেন্স কোম্পানি থেকে নো-ক্লেইম বোনাস-সনদ পেলেও পরবর্তী বছরের পলিসি খরচ বেড়ে যাবে! ব্যাপারটি খুবই আনফেয়ার।

লন্ডন শহরে প্রচুর দক্ষ চোর রয়েছে। শপগুলোতে যারা এই দায়িত্বে আছেন ওনাদেরকে সিকিউরিটির ভাষায় বলা হয় ‘শপ-লিফটার্স’। অনেক চোর আছেন যারা শুধু তালাবদ্ধ বাই-সাইকেলের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো খুলে নিয়ে যান নিজের মনে করে! এমনও দেখা যায়, বাই-সাইকেলের শুধুমাত্র ট্রায়াঙ্গল ফ্রেমখানা ঝুলে আছে তালাবদ্ধ অবস্থায়!
[Keep your children away from the devices]

লেখক : জিয়াউল ইসলাম, লন্ডন।