ঢাকারবিবার , ২ জানুয়ারি ২০২২
  1. 'অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আর্কাইভ
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. খেলাধুলা
  8. ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম
  9. জাতীয়
  10. ধর্ম
  11. নারী ও শিশু
  12. প্রবাসীদের কথা
  13. বরিশাল
  14. বিজ্ঞান
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মঠবাড়িয়ায় কবর খুঁড়ে তিন মাসে তিন মরদেহ উত্তোলন

স্টাফ রিপোর্টার :
জানুয়ারি ২, ২০২২ ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই তিন মাসে আদালতের নির্দেশক্রমে কবর খুঁড়ে তিনটি মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দুইটি এবং মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ একটি মরদেহ উত্তোলন করেন। গত ২৭ অক্টোবর পিরোজপুরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরীর উপস্থিতিতে পিবিআই উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের কৃষক আঃ বারেক গাজীর (৬০) মরদেহ, ২৫ নভেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদ হাসান এর উপস্থিতিতে পৌর শহরের সবুজ নগর এলাকার ইমরান গাজীর (২৬) মরদেহ এবং সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আফরোজ এর উপস্থিতিতে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ উপজেলার চড়কখালী গ্রাম থেকে রহিমা খাতুনের (৬০) মরদেহ উত্তোলন করেন। এর মধ্যে আঃ বারেক গাজী ও রহিমা খাতুনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এবং ইমরান গাজীর মরদেহ পুনঃ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়। এসময় মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ প্রীতম কুমার পাইক ও পিরোজপুর পিবিআই’র পরিদর্শক আহসান কবির ও মঠবাড়িয়া থানার সাব-ইন্সেপেক্টর মোঃ রায়হান আহমেদ সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের মৃত শের আলীর পুত্র কৃষক আব্দুল বারেক গাজী নিজ জমিতে ইরি ধানের বীজ রোপন করেন। ওই দিন বিকালে কে বা কারা প্রতিবেশী মৃত ওয়াজেদ আলী হাওলাদারের পুত্র প্রভাবশালী ইউনুস হাওলাদারের বীজতলা থেকেই বীজ চুরি করেন। এতে ইউনুস হাওলাদার বারেক গাজীকে সন্দেহ করে। একপর্যায়ে কৃষক আঃ বাকের গাজীকে সন্ধ্যায় তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে বীজতলা থেকে ধানের বীজ চুরি করে নেয়ার অপবাদ দিয়ে মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই বারেক গাজী মারা গেলে সে স্ট্রোক করেছে বলে প্রভাবশালী ইউনুস হাওলাদার প্রচার চালায়। একপর্যায়ে প্রভাবশালী ইউনুস হাওলাদার মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই কৃষক বারেক গাজীর পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে দাফন সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনায় কৃষক বারেক গাজীর আপন ভাই আঃ হালিম গাজী বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার অভিযোগ এনে ইউনুস হাওলাদারকে (৫৫) আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
অপরদিকে গত ১১ অক্টোবর (সোমবার) দুপুরে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ পৌর শহরের সবুজ নগর এলাকার আউয়াল শরীফের নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে ফ্যান লাগানোর রডের সাথে ইলেক্টট্রিক মিস্ত্রি ইমরান গাজীর গলায় ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনা নিহতের ভাই আব্দুল্লাহ গাজী বাদি হয়ে ১৮ অক্টেবর ৫ জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের বিচারকি হাকিম মো. কামরুল আজাদ মামলাটি আমলে নিয়ে এ মামলাটিও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের আদেশ দেন। এছাড়া উপজেলার চড়কখালীতে রহিমা খাতুনকে আগুনে পুড়ে হত্যার অভিযোগে তার পুত্র রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৪ নভেম্বর মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঠবাড়িয়া থানাকে এফআইআরের নির্দেশ দেন।
মামলায় একই বাড়ির আঃ খালেক খা (৬০), তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও কন্যা নোছেফা বেগমের নাম উল্লেখ্যসহ আরো ৩/৪জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করেছেন।
অপরদিকে উপজেলার চড়কখালী গ্রামের আবুল হাসেম হাওলাদারের স্ত্রী রহিমা খাতুন ০৬ নভেম্বর রাতে নিজের রান্না ঘরে আগুনে দগ্ধ হয়। এ সময় তার ডাকচিৎকারে ছেলে ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই দিন চিকিৎসার পর রহিমা খাতুনের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাওয়ার পরমর্শন দেন। কিন্তু রহিমা খাতুনের ছেলেরা অসহায় হওয়ায় তারা তাকে বাড়ি নিয়ে যান। এরপর বাড়িতে বসে রহিমা খাতুনের মৃত্যু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র ইন্সপেক্টর আহসান কবির ও মঠবাড়িয়া থানার সাব-ইন্সেপেক্টর মোঃ রায়হান আহমেদ সোহেল বলেন, আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট ও ডাক্তারের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।